প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 25, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 25, 2026 ইং
ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটছে যেভাবে

বর্তমান বিশ্বে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের পরিস্থিতিতে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে প্রতিরক্ষা বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ভারত। উদ্ভাবন, প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং কৌশলগত সংস্কারের মাধ্যমে এই খাতটিতে ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের প্রথম পর্যায়টি মূলত আমদানি কমানো ও বিকল্প দেশীয় উৎপাদনের ওপর নির্ভর ছিল। তবে এর পরবর্তী পর্যায়টি হবে প্রযুক্তির নিজস্ব মালিকানা লাভ এবং বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জনের।
ভারতের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সাম্প্রতিক 'বিটি-ডেলয়েট ইন্ডিয়া' জরিপে এই পরিবর্তনের স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে। অ্যারোস্পেস এবং প্রতিরক্ষা খাতের কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত মুনাফা তিন গুণের চেয়েও বেশি বেড়েছে গত পাঁচ বছরে। এই খাতের ২৬টি তালিকাভুক্ত কোম্পানি ২০২৬ অর্থবছরে মোট ২৩,১১১ কোটি রুপি মুনাফা অর্জন করেছে, যা ২০২১ অর্থবছরে ছিল ৭,৫০৭ কোটি রুপি—অর্থাৎ এক্ষেত্রে ২০৮% প্রবৃদ্ধি ঘটেছে।
'এসিই ইকুইটি'র তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে ভারতের বেশ কয়েকটি অ্যারোস্পেস, প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মুনাফা অভাবনীয়ভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে জেন টেকনোলজিস সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করেছে; প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ২০২১ অর্থবছরের মাত্র ২.৮ কোটি রুপি থেকে ৭,৭৫৭% লাফিয়ে বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে ২১৭.৯ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে।
জে কে এন্টারপ্রাইজেস-এর মুনাফা ৭২৭% বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে অ্যাস্ট্রা মাইক্রোওয়েভ প্রোডাক্টস এবং সোলার ইন্ডাস্ট্রিজ ইন্ডিয়ার মুনাফা যথাক্রমে ৫৬৯% এবং ৫০৩% বেড়েছে। বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর মধ্যে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স ২০২৬ অর্থবছরে ৯,১১৫.৫ কোটি রুপি নিট মুনাফা অর্জনের কথা জানিয়েছে, যা ২০২১ অর্থবছর থেকে ১৮১% বেশি। একইভাবে ভারত ইলেকট্রনিক্স এর মুনাফা ১৯১% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬,০২৩.৫ কোটি রুপিতে। অন্যদিকে মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স এর মুনাফা ৪৩৪% বৃদ্ধি পেয়ে ২,৪২১.৯ কোটি রুপি হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে, ভারতের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ ১.১ লাখ কোটি রুপির ক্রয়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে, যার ৯৮% সরবরাহ করা হবে ভারতীয় কোম্পানিগুলো থেকে। ২০২৫ অর্থবছর থেকে ২০২৭ অর্থবছর পর্যন্ত এখন পর্যন্ত এই অনুমোদনের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে বিশাল ১৩ লাখ কোটি রুপিতে।
ডেলয়েট ইন্ডিয়ার স্ট্র্যাটেজি, রিস্ক অ্যান্ড ট্রানজ্যাকশনসের পার্টনার অ্যালারিক ডিনিজের মতে, বিনিয়োগের পরবর্তী পর্যায়ে টেকসই মান তৈরি, দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতার বিকাশ এবং বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অপারেশন সিঁদুর চালকবিহীন আকাশযান (ইউএভি), এআই-চালিত কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম, স্যাটেলাইট এবং এআই-চালিত রাডারের মতো দ্বৈত-ব্যবহারের প্রযুক্তিগুলোর (সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তি) ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
'ডিফেন্স বা প্রতিরক্ষা খাতটি আরও পরিপক্ক এবং প্রযুক্তি-নির্ভর একটি ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হওয়ার সাথে সাথে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে ভবিষ্যতে চুক্তির সংখ্যা ও লেনদেন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে- বিশেষ করে দ্বৈত-ব্যবহারের (সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত) প্রযুক্তি এবং রপ্তানির জন্য প্রস্তুত ও সহজে প্রসারযোগ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে,' এমনটি বলেন অ্যালারিক ডিনিজ।
সূত্র: বিজনেস টুডে
এই ওয়েবসাইটের সকল ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা নিষেধ। উক্ত নিউজ পোর্টালটির নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।